প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিক্ষার্থীদের তিনি রাজাকার বলেননি, তারা (শিক্ষার্থীরা) নিজেরাই নিজেদের রাজাকার বলে সেøাগান দিয়েছে। দেশের সম্মান নষ্ট করতে এখনও ফোন করে লন্ডনে বসে বিশ্বব্যাপী প্রবাসীদের উসকে দিচ্ছে। অতিদ্রুত দুষ্কৃতকারীদের খুঁজে বের করতে জনগণের সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত ও শিবির দেশের উন্নয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্যই দেশব্যাপী তাণ্ডব চালিয়েছে। এই ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে সহায়তা করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবন পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত রামপুরার বিটিভি ভবন ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের আমি রাজাকার বলিনি, আমার বক্তব্যকে বিকৃত করা হয়েছে। তারা (শিক্ষার্থীরা) নিজেরাই নিজেদের রাজাকার বলে সেøাগান দিয়েছে। তিনি বলেন, যারা এমন হামলার সঙ্গে জড়িত তারা দেশের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে রয়েছে। তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। এজন্য দেশের জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াত অতীতের মতোই অগ্নিসন্ত্রাস করেছে। এবার তারা আলাদা, তারা গান পাউডার ব্যবহার করেছে। দেশের বাইরে আন্দোলন ছড়িয়ে দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট ও মানুষের রুটি-রুজি বন্ধের পাঁয়তারা করছে তারা।
লন্ডনে বসে ফোন করে প্রবাসীদের উসকে দেয়া হচ্ছে : দেশের সম্মান নষ্ট করতে এখনও ফোন করে লন্ডনে বসে বিশ্বব্যাপী প্রবাসীদের উসকে দেয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত অতীতের মতোই অগ্নিসন্ত্রাস করেছে। তবে এবার তারা আলাদা পদ্ধতি অবলম্বন করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
দুষ্কৃতকারীদের খুঁজতে জনগণের সহায়তা চান শেখ হাসিনা : দুষ্কৃতকারীদের খুঁজে বের করতে জনগণের সহায়তা চেয়ে সরকার প্রধান বলেন, যারা এই ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত, আনাচে-কানাচে যেসব হামলাকারী লুকিয়ে আছে, তাদের খুঁজে বের করে সাজা নিশ্চিত করতে দেশের জনগণকে সহযোগিতা করতে হবে। এই শত্রুদের খুঁজে বের করতে জনগণের সহযোগিতা চাই। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়ত অতীতের মতোই অগ্নি সন্ত্রাস করেছে। এবার তারা আলাদা, তারা গান পাউডার ব্যবহার করেছে। দেশের বাইরে আন্দোলন ছড়িয়ে দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট ও মানুষের রুটি রুজি বন্ধের পাঁয়তারা করছে তারা।
শিক্ষার্থীদের রাজাকার বলিনি, আমার বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোটা ইস্যুতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছি তা বিকৃত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের রাজাকার বলিনি তারা নিজেরাই নিজেদের রাজাকার বলে সেøাগান দিয়েছে। তিনি বলেন, যারা এসব ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত, সারা বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে যে যেখানে আছেন, তাদের খুঁজে বের করুন, তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য সহযোগিতা করুন। আমি দেশবাসীর কাছে সে আহ্বান জানাই। কারণ জনগণই এ দেশের একমাত্র শক্তি। কেউ মিথ্যাচার চালিয়ে যেন বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে সে জন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে কাউকে যেন বিভ্রান্ত করতে না পারে। (সবাই) আসল সত্যটা জানুক।
ধ্বংসযজ্ঞে জড়িতরা দেশের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে আছে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা ধ্বংসযজ্ঞে জড়িতরা দেশের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে আছে। এদের খুঁজে বের করতে জনগণকেই সহযোগিতা করতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি জামায়াত অতীতের মতোই অগ্নি সন্ত্রাস করেছে। তবে এবার আলাদা। তারা গান পাউডার ব্যবহার করেছে। তিনি আরও বলেন, দেশবাসীকে বলব, ঢাকাবাসীকে বলব, যাদের জন্য আজ আপনাদের এ দুর্ভোগ, যারা ধ্বংস করল, যাদের জন্য আজ বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে, আমি তাদের বিচারের ভার এদেশের জনগণের ওপরই দিয়ে যাচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন, যারা এদেশের মানুষের রুটি-রুজির ওপর হাত দিয়েছে, রুটি-রুজির পথ বন্ধ করে দিয়েছে, তাদের বিচার জনগণকেই করতে হবে। কারণ জনগণই এ দেশের একমাত্র শক্তি।
আমার নির্দেশে ছাত্রলীগ হল থেকে বেরিয়ে এসেছিল : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদেরকে নিজেই বের হয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ইডেন মহিলা কলেজ হলের ছাত্রলীগের কর্মীরা যেসব কামরায় থাকতো, সবগুলো ভাঙচুর লুটপাট করা হয়েছে। তাদের রুমের সব কিছুতেই আগুন দেয়া হয়েছে। তাদের সার্টিফিকেট পুড়িয়ে দিয়েছে। যখন আমাকে জানানো হলো, আমি ছাত্রলীগের নেতাদের বললাম তোমরা হল থেকে বেরিয়ে আসো। কোনো ঝামেলায় যাওয়ার দরকার নেই। তারা কান্নাকাটি করে... আমাদের সার্টিফিকেট পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, আমি বলেছি সব পাওয়া যাবে। কিন্তু কোনো ঝামেলায় যাবে না। হল থেকে চলে আসো। তারা বেরিয়ে আসে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রছাত্রীরা যখন নিজেকে ‘তুমি কে আমি কে রাজাকার রাজাকার’ সেøাগান দেয়, তখনই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করেছিল। ওই একদিনেই। এছাড়া তো তারা কোনো গন্ডগোল করেনি। তারা সব সময় সহযোগিতার মনোভাব দেখিয়েছে, সাহসীকতা দেখিয়েছে। এখন তাদের উপর ক্ষোভ। তিনি বলেন, যারা এই ধরনের ঘটনা ঘটালো, শিক্ষকের গায়ে হাত তুলল, ছাত্রদের মারলো, হলগুলি লুটপাট করলো, তাদের কি হবে? প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭১ সালের ২৫ শে মার্চ হানাদার বাহিনী গণহত্যা যখন শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। রোকেয়া হলের প্রায় তিনশ মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করে। জগন্নাথ হল, ইকবাল হল, রোকেয়া হল....। মেয়েদেরকে রেপ করেছে, তুলে নিয়ে গেছে তাদের ক্যাম্পে। সেই ২৫ শে মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর কি করেছে তারা! বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তুলে নিয়ে তাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আবার সেই জায়গায় হল ভাঙ্গা, শিক্ষকদের গায়ে হাত তোলা এমনকি মহিলা শিক্ষক তাদেরকেও ছাড়েনি। ইডেনে মেয়েদেরকে খাম্বার সঙ্গে বেঁধে তাদের উপরে অত্যাচার, তাদেরকে নাকে খত দেয়া, কান ধরে উঠাবসা করা-এরকম নানারকম জুলুম অত্যাচার করেছে। তাদের অপরাধ কি? তারা ছাত্রলীগ করে। এভাবে ছাত্রলীগের কোনো কামরা নাই যে সেগুলো ভাঙচুর লুটপাট বা অগ্নিসংযোগ করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বাংলাদেশটাকে নরক বানানোর চেষ্টা করা হলো। তাই আমরা বাধ্য হয়েছি সেনাবাহিনী নামাতে। কারণ মানুষের জান মাল রক্ষা করা, এটা আমাদের কর্তব্য। যার ফলে মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

* শিক্ষার্থীদের আমি রাজাকার বলিনি, বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে * দুষ্কৃতকারীদের খুঁজে বের করতে জনগণের সহায়তা প্রয়োজন * এখনও লন্ডনে বসে ফোন করে প্রবাসীদের উসকে দেয়া হচ্ছে * আমার নির্দেশে ছাত্রলীগ হল থেকে বেরিয়ে এসেছিল
বিটিভি ভবন পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী : অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে
- আপলোড সময় : ২৭-০৭-২০২৪ ১২:৩৩:০৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৭-০৭-২০২৪ ১২:৩৩:০৯ পূর্বাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ